Breaking

Saturday, 21 September 2019

September 21, 2019

জুময়ার খুতবা পাঠ করার সময় ডানে বামে চেহারা ঘুরিয়ে পাঠ করা

                                      মো . কামালুদ্দী.
                                      মাদারীপুর
                                                          প্রশ্ন 
 بسم الله الردمن الرحيم

মাননীয় মুফতি সাহেব, আমাদের মসজিদের খতীব সাহেব জুময়ার খুতবা পাঠ করার সময় ডানে বামে  চেহারা ঘুরিয়ে  পাঠ করে। এখন আমার জানার বিষয় হলো, ডানে-বামে ঘাড় ফিরিয়ে খুৎবা পাঠ করার হুকুম কি? জানালে উপকৃত হবো।                                                   উত্তরঃ
 জুমুয়ার খুৎবা পাঠ করার সময় ডানে বামে চেহারা ঘুরানো জায়েয আছে তবে ছিনা বা বক্ষ ঘুরানো জায়েয নেই
والله اعلم بالصواب



শরয়ী দলীলঃ
1.    ফতোয়ায় রহিমিয়া, 6/140


Friday, 20 September 2019

September 20, 2019

নারী অধিকার: আমরাহ বিনতে আবদুর রহমান রাহ.


বিশিষ্ট তাবেয়ী আমরা বিনতে আবদুর রহমান। লালিত পালিত হন আম্মাজান হযরত আয়েশা রা.-এর কোলে। আম্মাজান আয়েশা রা. আরো নবীপত্নীগণের ন্যায় নিঃসন্তান ছিলেন। তবে তিনি কিছু শিশুদের লালন পালন করতেন। যেমন তাঁরই ভাগ্নে উরওয়া, ভাতিজা কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ। এঁদের মধ্যে একজন হলেন আমরা বিনতে আবদুর রহমান। আম্মাজান আয়েশা প্রত্যেককে এমনভাবে গড়ে তোলেন যে, পরবর্তীতে তারা প্রত্যেকে আমল-আখলাক, ইবাদত-বন্দেগী, দুনিয়া বিমুখতা, দ্বীনী জযবা ইত্যাদি গুণাবলিতে এবং কুরআন-হাদীস, ফিকহ তথা ইলমী যোগ্যতায়ও যুগশ্রেষ্ঠ মনীষীতে পরিণত হন।
খলীফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল  আযীয রাহ. উরওয়া সম্পর্কে বলেন,
ما اجد اعلم من عروة بن الزبير وما اعلمه يعلم شيا اجهله                              
উরওয়া অপেক্ষা (তাঁর যুগে) অধিক জ্ঞানী  কেউ নেই। আর আমি মনে করি না যে, দ্বীন সম্পর্কে উরওয়ার কোনো বিষয় অজানা আছে।
আবুয যিনাদ উরওয়া সম্পর্কে বলেন,


فقهاء المدينة أربعة: سعيد وعروة وقبيصة وعبد الملك بن مروان
মদীনার ফকীহ চারজন: এক.সাঈদ বনে মুসায়িব দু. উরওয়া তিন. কবিসা চার. আব্দুল মালেক বনে মারওয়ান।
কাসেম সম্পর্কে বিশিষ্ট ইমাম হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওহাব রাহ. বলেন, তিনি এ উম্মতের ফকীহ। ইজলী বলেন, ইনি শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীদের একজন।
এদের ন্যায় হযরত আমরাকেও আম্মাজান আয়েশা ছোটবেলা থেকে গড়ে তোলেন। হতে হতে তিনিও এদের মত যুগশ্রেষ্ঠ আবেদ, যাহেদ, দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতগুযার, মুফতী, মুহাদ্দিসে পরিণত হন।
ইমাম যাহাবী রাহ. তাঁর সম্পর্কে লেখেন,
كانت عالمة فقيهة حجة كثيرة العلم
 তিনি আলেমা, ফকীহা, হাদীসের বড় ইমাম ও অনেক ইলমের অধিকারী ছিলেন।
কাসেম ইবনে মুহাম্মাদের কথা একটু পূর্বেই উল্লেখ হয়েছে। প্রসিদ্ধ হাদীস সংকলক ইবনে শিহাব যুহরী বলেন,
قال لي يا غلام اراك تحرص علي طلب العلم أفلا ادلك علي وعائة قلت بلي قال عليك بعمرة فانها كانت في حجر عائشة قال فاتيتها فوجدتها بحرا لا ينزف.
একদিন কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ আমাকে বললেন, বৎস! আমি তোমাকে ইলম অন্বেষণে বেশ আগ্রহী দেখছি। আমি কি তোমাকে ইলমের ভান্ডারের সন্ধান দিব? আমি বললাম অবশ্যই। তিনি বললেন, তাহলে তুমি আমরা-এর নিকট যাও। কেননা, সে আয়েশার কোলে গড়ে উঠেছে। যুহরী বলেন, অতপর আমি তাঁর নিকট আসলাম এবং তার কাছ থেকে শিখতে থাকলাম। শিখতে শিখতে তাকে এমন অথৈ সমুদ্র পেলাম, যা নিঃশেষ হবার নয়।
হযরত আমরাও ইলম অন্বেষণে এমন মনযোগ ও শ্রম ব্যয় করেন যে, হযরত আয়েশা রা. থেকে যা শুনতেন সবই মুখস্থ করে নিতেন। হযরত আয়েশার হাদীস, ফতোয়া, ইবাদত-বন্দেগী, আখলাক-চরিত্র সম্পর্কে যে কয়জন সবচে বেশি অবগত ছিলেন তিনি তাদের উল্লেখযোগ্য। হযরত আয়েশার হাদীসের পরিধি কত বিস্তৃত তা বলাই বাহুল্য। তাঁর ইলমের গভীরতা ও ব্যপ্তি- বলার অপেক্ষা রাখে না। হযরত আমরা রাহ. আয়েশা রা.-এর এ বিশাল হাদীস-ভাণ্ডার আয়ত্ত করে নেন। খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আযীয রাহ. একদিন বলেন, আয়েশা রা.-এর হাদীস সম্পর্কে আমরা অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী আর কেউ বেঁচে নেই। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা রাহ. বলেন,
اعلم الناس بحديث عائشة ثلاثة: القاسم بن محمد بن أبي بكر الصديق وعروة بن الزبير وعمرة بنت عبد الرحمن
 আয়েশা রা.-এর হাদীস সম্পর্কে তিন জন বেশি জ্ঞাত। আমরা, কাসেম, উরওয়া।
খলিফা হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রাহ. যখন হাদীস সংকলনে ব্রতী হন এবং এর জন্য ইমাম যুহরী, আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাযমকে নিযুক্ত করেন, তখন তিনি আবু বকরকে সবিশেষ নির্দেশ দেন যে, তুমি নবীজীর হাদীসের পাশাপাশি উমর রা.-এর বাণীও সংকলন করবে। সাথে সাথে আমরা-এর হাদীস ও ইলম লিপিবদ্ধ করবে।
ইলম অন্বেষণের পর পরবর্তীতে এই মহীয়সী নারী ইলম প্রসারেও ব্রতী হন। তাঁর হাতে অনেক বড় বড় মুহাদ্দিস গড়ে ওঠে। অনেক ছাত্র তার কাছ থেকে হাদীস, ফিকহ তথা দ্বীন শেখেন।


তার ভাতিজা হারেছা, তার ভাই মুহাম্মাদ, তার ভাগ্নে আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাযম, আরেক ভাতিজা ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ, ভাগ্নের ঘরের নাতী আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর, তার ছেলে আবুর রিজাল, তার নাতী মালিক, মদীনার শ্রেষ্ঠ মুফতী ইয়াহইয়া ইবনে সায়ীদ আলআনসারী ও সুলাইমান ইবনে ইয়াসার, যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আম্র ইবনে দীনার, হাদীস সংকলক ইবনে শিহাব যুহরী, রায়েতা, ফাতেমাসহ অনেক বিদ্বান তাঁর হাতে গড়ে উঠেন এবং তার কাছ থেকে হাদীস শেখেন।
হিজরী ৯৭ কিংবা ৯৮ সনে এ বিদুষী নারী তাঁর কর্মমুখর জীবন সমাপ্ত করে আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন করেন।
তথ্যসূত্র : তাহযীবুল কামাল; সিয়ারু আলামিন নুবালা; তাবাকাতে ইবনে সাআদ ইত্যাদি।

Tuesday, 17 September 2019

September 17, 2019

মসজিদ মাদরাসা নির্ভর না থেকে যে কোন পেশা গ্রহন করুন- সত্য প্রকাশ



মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী দা. বা.। দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসার সদরুল মুদাররিসিন ও শায়খুল হাদিস। যার ছাত্র চারো মাযহাবের মানুষ। মদিনায় চার মাযহাবের ছাত্রদেরকে একসাথে তিনি হাদিসের দরস দিয়েছেন। ‘মুহাক্কিকুল আসর’, ‘মুহাদ্দিসে কবির’, ‘ফকিহুন নফছ’, ‘মুতাকাল্লিমে ইসলাম’, ‘মুফাসসিরে মিল্লাত’সহ আরো কতো লকবে আমরা তাকে স্মরণ করি।
নসির সাহেব রহ. পালনপুরী হুজুর সম্পর্কে বলেছিলেন-
ﻭﮦ ﺗﺮﺟﻤﺎﻥ ﺷﺎﻩ ﻭﻟﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﮨﮯ , ﺍﻭﺭ ﻭﻩ ﺟﺲ ﻓﻦ ﭘﺮ ﻗﻠﻢ ﺭﻛﮭﺘﺎ ﮨﮯ ﺍﺟﺎﻻ ﻛﺮ ﺩﻳﺘﺎ ﮨﮯ
অর্থাৎ-‘পালনপুরী সাহেব শাহ ওলিউল্লাহ রহ.’র ভাষ্যকার। আর তিনি যে শাস্ত্রেই কলম ধরেন একদম পরিস্কার ও সহজ করে তুলেন।’
আলেমদের উদ্দেশ্যে পালনপুরী বলেন, বর্তমানে মাদরাসায় পড়ানো কিংবা মসজিদে ইমামতি করার পাশাপাশি রোজগারের জন্য কোনো ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়ানো অনেকেই খারাপ মনে করে থাকেন। ভাবেন, আলেম মানেই তো শুধু মাদরাসা, মসজিদ, খানকা নিয়েই পড়ে থাকা।

সাধারণের পাশাপাশি এমনটা আলেমরাও ধারণা করে বসছেন আজকাল। অথচ নিজ হাতে জীবিকা উপার্জন করা একটা উত্তম কাজ। এটা তাকওয়া, পরহেজগারির বিপরীত কোনো বিষয় নয়। বুখারি শরিফের ২৭৮ নম্বর পৃষ্ঠায় এ সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ও রয়েছে।

তাছাড়া নবী-রাসুল সা. সাহাবায়ে কেরাম ও আকাবিরদের প্রায় প্রত্যেকেই ধর্মীয় কাজের পাশাপাশি সংসার পরিচালনার জন্য কোনো একটি পেশা বা কাজ বেছে নিয়েছিলেন।

হজরত দাউদ আ. রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি লৌহবর্ম তৈরি করতেন। হজরত সোলাইমান আ. ঝুড়ি বানাতেন। রাসুল সা. ও সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই নানা ধরনের ব্যবসা করেছেন।

এই তো কয়েক শ’ বছর আগেও বাদশাহ আওরঙ্গজেব রহ. নিজ হাতে কুরআন শরিফ লিপিবদ্ধ করতেন এবং তা বিক্রি করতেন। আজও দারুল উলুম দেওবন্দের কুতুবখানায় তার হাতে লেখা কুরআনে কারিমের সেই কপি হুবহু বিদ্যমান।
দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার আগে শাইখুল ইসলাম হজরত মাওলানা কাসেম নানুতুবি রহ. মিরাঠের একটি ছাপাখানায় প্রুফ দেখার কাজ করতেন। দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার পর তা ছেড়ে দেওয়ার তাগাদা দিয়ে চিঠি দেওয়া হলো।

তিনি আরজ করলেন, ‘সব ছেড়ে দিলে আমার পরিবারের খরচ বহন করব কী করে!’ তাহলে কি তার মাঝে কোনো তাকওয়া, পরহেজগারি ছিল না? অবশ্যই ছিল। অধিক তাকওয়ার ফলেই দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে তিনি কোনো দিনও বেতন গ্রহণ করতেন না।
মাম শুবা রহ. এর জীবনী পড়তে এখানে টাচ করিুন

বর্তমানে আমাদের পথপ্রদর্শক দারুল উলুম দেওবন্দের আসাতিজায়ে কেরাম অধ্যাপনার পাশাপাশি কোনো না কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। আমি নিজেও বহুদিন কুতুবখানায় কাজ করেছি। ছাপানো, বাইন্ডিং সব নিজ হাতে করেছি। কারো সহযোগিতা নেইনি কখনো। দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে ভাতা গ্রহণ করে আবার লিল্লাহ ফান্ডে ওয়াকফ করে দিই আজ অবধি।

আলেমরা মাদরাসা-মসজিদ, মক্তব, খানকা সবই দেখবেন। পাশাপাশি প্রয়োজনমাফিক জীবিকা উপার্জনের জন্য যেকোনো একটি কাজে লেগে যাবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন ধর্মীয় কাজে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।

আর মাদরাসা ও মসজিদ থেকে যা পাবে, তাকে গনিমত মনে করা চাই। পড়া, পড়ানো, খাওয়া, ঘুম ছাড়া আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় থাকে। সে সময়টা অযথা নষ্ট না করে উপার্জনের উদ্দেশ্যে কোনো না কোনো কাজে ব্যয় করা উচিত।

আমার চ্যানেল টি দেখে আসুন কাগজ কিনে লেখালেখি করা বা সেলাই মেশিন কিনে ঘরে বসে কাজ করা চাই। এতটুকু শ্রমও সংসার পরিচালনার জন্য যথেষ্ট। প্রথম তো আসবাব গ্রহণ করতে হবে আমায়। তারপর না হয় তাওয়াক্কুলের পর্ব।

তিরমিজি শরিফের একটি হাদিসে রয়েছে, এক সাহাবি রাসুল সা.-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কি উটের পায়ে রশি লাগিয়ে তার ওপর ভরসা করে ঘরে বসে থাকব?’ রাসুল সা. বললেন, ‘আগে তো হেফাজতের জন্য আসবাব গ্রহণ করো। তারপর না হয় ভরসা করো।

অযুহীন অবস্থায় আযান দেয়ার হুকুম কি? জানতে ক্লিক করুন এখানে

এ কারণে প্রথমে আসবাব এখতিয়ার করা দোষণীয় নয়, বরং আমরা আমাদের আকাবিরদের থেকেও এ শিক্ষাই পাই। এজন্য জীবিকার উদ্দেশ্যে শুধু মাদরাসায় পড়ানো বা মসজিদে ইমামতি করার ওপর ভরসা করা উচিত নয়। এতে কোনো বুজুর্গি নেই; বরং নিজ হাতে উপার্জন করে বৈধপন্থায় সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করাই মোমিনের উত্তম কাজ। ফেসবুকে আমি

Monday, 16 September 2019

September 16, 2019

জুময়ার খুৎবা চলাকালিন সুন্নাত বা নফল নামায পড়ার হুকুম কি?


মো. আব্দুল জলীল
মাদারীপুর,


 প্রশ্ন

জনাব মুফতি সাহেব,জুময়ার খুৎবা চলাকালিন সুন্নাত বা নফল নামায পড়ার হুকুম কি? দলীল সমৃদ্ধ সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তরঃ 
জুময়ার খুৎবা চলাকালিন সুন্নত বা নফল নামায পড়া মাকরুহে তাহরীমী। কেননা, হাদীস শরীফে এসেছে- “ হযরত ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমর রা. ইমাম সাহেবের কামরা থেকে বের হওয়ার পর কোনো নামায পড়া ও কথা বলাকে অপছন্দ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,2/473)
আমার ভিডিও আলোচনা দেখতে 
ক্লিক করুন এখানে

শরয়ী দলীলঃ
·       في بدايع الصنايع1/592  واما محظورات الخطبة فمنها انه يكره الكلام حالة الخطبة وكذا قراءة القران وكذا الصلوة.
·       আরো দেখুন….
·       তাবয়ীনুল হাকায়েক, 1/535
·       ফতোয়ায় আলমগিরী,1/208
·       ফতোয়ায় বাজ্জাযিয়া,1/5
·       আলবাহরুর রায়েক,1/280
·       তাতারখানিয়া,2/576

Sunday, 15 September 2019

September 15, 2019

আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রা.





আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রা. জন্মেছিলেন আনুমানিক হিজরতের 31-37 বছর আগে ছায়ার মত লেগে থাকতেন নবীজীর সাথে সফরে বা হযরে গৃহের অভ্যন্তরে বা বাইরে সব সময় তিনি তার সাথই থাকতেন রাসূল ঘুমালে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন, গোসলের সময় পর্দা করতেন, বাইরে যাবার সময় পাদুকা পরিয়ে দিতেন, ঘরে প্রবেশের সময় জুতা খুলে দিতেনিএবং তার লাঠি মিসওয়াক বহন করতেনতাই হাদিস ও তারিখে তার উপাধিছাহিবুন নালাইন ওয়াল বিসাদ ওয়াল মিতহারঅর্থাৎ রাসূলের পাদুকা, তাকিয়া অযুর পাত্র বহনকারী( ছহীহ বুখারী, হাদীস- 3961)

হযরত আবু মূসা আশয়ারী রা. বলেন, “ আমরা অনেক দিন পর্যন্ত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ তার মাতাকে নবীজীর আহলে বাইত(পরিবারের সদস্য মনে করতাম)কেননা নবীজীর গৃহে তাদের আসা যাওয়া ছিলো খুব বেশী ( সহীহ বুখারী, হাদীস- 3769)
শুধু তা্  নয়, রাসূল . যখনই ইচ্ছা তার কামরায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিলেনএবং তার সকল বিষয় অবগত হওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন কারণে তাকেসাহিবুস সিরবা রাসূলের সকল গোপন বিষয়ের অধিকারী বলা হয়

রাসূলে কারীম . এর ওফাতের পর যখন ইসলামি খেলাফাতের পরিধি বিস্তৃত হতে লাগল এবং নতুন নতুন অঞ্চল বিজিত হল তখন সাহাবায়ে কেরাম দ্বীন এবং ঈমানের তালিমের জন্য দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়লেন হযরত উমর ফারুক রাযি. বড় বড় সাহাবীকে সাধারণত মদীনার বাইরে যেতে দিতেন না্ তবে ঈরাক জয়ের পর যখন কূফা নগরীর গোড়াপত্তন হল তখন সে অঞ্চলে দ্বীন শরীয়ত এবং কুরআন সুন্নাহর তালিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে পাঠালেন

তিনি কূফাবাসীকে পত্র লিখলেন যে, আমি আম্মার ইবনে ইয়াসির কে তোমাদের আমীর হিসেবে এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে উযির মুয়াল্লিম হিসেবে প্রেরণ করছি এরা দুজনই  রাসূল আমার অন্য ব্লগ থেকে ঘুরে আসুন . এর মনীষী সাহাবীদের অন্যতম এবং বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তোমরা তাদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং তাদের অনুসরণ করবে মনে রাখবে, আব্দুল্লাহকে আমার নিজের প্রয়োজন ছিলো কিন্তু আমি তোমাদের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়েছি এবং তোমাদের জন্য তাকে পছন্দ করেছি।



ইবনে মাঈন সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন এখানে আল্লাহর কিতাব কুরআনের জ্ঞানে তিনি কতখানি পারদর্শী ছিলেন সে সম্পর্কে তার নিজের  একটি মন্তব্য এক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য। তিনি বলেন, যিনি ছাড়া আর কোনো্ লাহ নে সে আল্লাহর কসম! আল্লাহর কিতাবের এমন কোনো একটি আয়াত নাযিল হয়নি যে সম্পর্কে আমি জানি না যে, তা কোথায় নাযিল হয়েছে এবং কী সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে আমার থেকে অধিক পারদর্শী কোনো ব্যক্তির কথা আমি যদি জানতে পারি এবং তার কাছে পৌছা সম্ভব হয় তাহলে আমি তার কাছে উপস্থিত হই।

জুময়ার খুতবা পাঠ করার সময় ডানে বামে চেহারা ঘুরিয়ে পাঠ করা

                                      মো . কামালুদ্দী.                                       মাদারীপুর                            ...