ব্রেকিং নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

মে ১৯, ২০২২

জাপানি ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন: MARUBOZU

একটি মারুবোজু একটি পূর্ণ দীর্ঘ শরীর এবং সবেমাত্র কোনো ছায়ার সাথে ক্যান্ডেলস্টিক মিস করা কঠিন।এই কঠিন শরীরটি যে কোনও নির্দিষ্ট দিকে একটি শক্তিশালী গতিবিধি নির্দেশ করে যে এটি উল্টোদিকে বা খারাপ দিক হতে পারে।যখন একটি বুলিশ (সবুজ/সাদা) মারুবোজু গঠিত হয়, এটি নির্দেশ করে যে মূল্য opene র মুহুর্তে, তারা আরও বৃদ্ধির প্রচেষ্টার মাঝখানে উচ্চতর এবং উচ্চতর লেনদেন করে অবশেষে বন্ধ হয়ে যায়।

সহজ কথায়, দিনের লো খোলার দামেই তৈরি হয় এবং ট্রেডিং সেশন শেষ হলে দিনের উচ্চতা তৈরি হয়। একইভাবে, একটি বিয়ারিশ (লাল বা কালো) সংস্করণে, খোলার এবং উচ্চ মূল্য একই যেখানে দিনের শেষের সময় বন্ধ করা হয়।

Opening Marubozu কি?

এখন, এটি একটি পাঠ্যপুস্তকের নিখুঁত সংজ্ঞা এবং একটি বরং বিরল ঘটনা।একটি নিখুঁত মারুবোজু একটি দৈনিক বা সাপ্তাহিক চার্টে অত্যন্ত বিরল, তবে, ইন্ট্রাডে চার্টে, তারা খুব অস্থির এবং শক্তিশালী আন্দোলনের সময়কালে পরিলক্ষিত হতে পারে।এই জাপানি ক্যান্ডেলস্টিকের আরও ব্যবহারিক সংস্করণ হল মারুবোজু খোলা ও বন্ধ করা।এই ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্নটি ঘটে যখন খোলার মূল্য দিনের উচ্চ বা কম সময়ে ঘটে।যখন ওপেনিং প্রাইস দিনের উচ্চতার সমান হয়, তখন এটি বিয়ারিশ হয় এবং যখন এটি দিনের নিম্নে থাকে তখন এটি বুলিশ মারুবোজু হয়।


এটি বোঝায় যে খোলার ঘণ্টা বেজে উঠার সাথে সাথে bears বা bulls দায়িত্ব নিয়েছিল এবং বাকি অধিবেশনের জন্য দামগুলিকে সেদিকে ঠেলে দিয়েছে।বিয়ারিশ প্যাটার্নের ক্ষেত্রে, যে সমস্ত ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ অবস্থান রয়েছে তারা ট্রেড থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান না কারণ দাম নিঃশ্বাস ছাড়াই নিচে নেমে যায় এবং একটি বুলিশ প্যাটার্নে, লেনদেন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই bulls দায়িত্ব নেয় এবং যেকোনো প্রাথমিক ছোট ব্যবসায়ী খারাপভাবে আটকে যাবে।


Closing Marubozu? কি?


ক্লোজিং মারুবোজু একটি শক্তিশালী ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন। এটি গঠিত হয় যখন বন্ধ মূল্য দিনের উচ্চ বা নিম্ন সমান হয়।যখন ক্লোজ প্রাইস কমের সমান হয় তখন তাকে বিয়ারিশ বলা হয় এবং যখন ক্লোজ প্রাইস উচ্চের সমান হয় তখন এটি একটি বুলিশ মারুবোজু।এটি ইঙ্গিত দেয় যে খোলার সময় প্রারম্ভিক ঝাঁকুনির পরে দামগুলি কেবলমাত্র একক দিকের গতি বজায় রাখে না, প্রকৃতপক্ষে, অংশগ্রহণকারীরা ট্রেডিং সেশনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনুভূতি বজায় রেখেছিল।এইভাবে, এটি প্রত্যাশিত যে যখন ট্রেডিং সেশন পুনরায় খোলে, মূল্য বন্ধের দিকে চলতে থাকবে। এটি আবার পর্যবেক্ষণ করা একটি বিরল প্যাটার্ন।


জাপানি ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্নের উদাহরণ



বুধবার, ১৮ মে, ২০২২

মে ১৮, ২০২২

কুমিল্লায় উদ্ভোধন হলো আইটির সকল পন্য নিয়ে W3 Codevs

কুমিল্লার নিউ মার্কেটে ‘‘কুমিল্লাা আইটি পার্কে’’র 4র্থ তলায় আইটির সকল পন্য নিয়ে উদ্বোধন হয়েছে W3 Codevs । এ শপে আইটি সেক্টরের যাবতীয় পণ্য সুলভ মূল্যে পাওয়া যাবে। 




তাদের সার্ভিস সমূহ হলো, 

  1. Desktop Assemble
  2. Desktop and Laptop Servicing
  3. Software Installation
  4. Printer Cartridge Refiling
  5. CCTV Sales and Service
  6. Internet and Networking
  7. All Kinds of Sales and Service
  8. Freelancing and Outsourcing


ইউটিউবে আমার লেকচার শুনতে এখানে ক্লিক করুন

তাদের কোর্সসমূহ হলো,

  1. Web Design and Development
  2. Grapich Design
  3. Digital Marketing
  4. Cyber Security and Ethical Hacking

উল্লেখ্য, W3 Codevs দীর্ঘ দিন যাবত অনলাইনে ফ্রিতে বিভিন্ন কোর্স পরিচালিত করে আসছে। তাদের থেকে ফ্রিতে কোর্স করে শত শত যুবক স্বাবলম্বী হয়েছেন। 



মে ১৮, ২০২২

পিয়ার্সিং প্যাটার্ন - কীভাবে পিয়ার্সিং ক্যান্ডেলস্টিক দিয়ে ট্রেড করবেন?

পিয়ার্সিং প্যাটার্ন কি? এটি একটি বুলিশ রিভার্সাল প্যাটার্ন যা ডাউনট্রেন্ডের শেষে পাওয়া যায়।এই ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্নটি একটি দীর্ঘ অবস্থানে প্রবেশ করতে বা বিক্রয় অবস্থান থেকে প্রস্থান করার জন্য একটি সূচক হিসাবে ব্যবহৃত হয়।এই ধরনের প্যাটার্ন তৈরি হয় যখন bulls এবং bears, উভয়ই দামের উপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার জন্য লড়াই করে। পিয়ার্সিং প্যাটার্ন দুটি candlesticks দ্বারা গঠিত হয়।

প্রথম ক্যান্ডেলস্টিকটি লাল ক্যান্ডেলস্টিক হওয়া উচিত একটি বড় আসল বডি সহ এবং দ্বিতীয় ক্যান্ডেলস্টিকটি সবুজ রঙের হওয়া উচিত এবং আগের ক্যান্ডেলস্টিকের নীচে হওয়া উচিত।দ্বিতীয় ক্যান্ডেলস্টিকটি অবশ্যই প্রথম ক্যান্ডেলস্টিকের আসল বডির মাঝখানের উপরে বন্ধ করতে হবে।উভয় ক্যান্ডেলস্টিকই মারুবোজু হওয়া উচিত যার উপরের বা নীচের ছায়া নেই।







যেহেতু বাজার ইতিমধ্যেই একটি নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে, opening মূল্য উচ্চ এবং বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ট্রেডিং সেশনের শেষে, ক্লোজিং প্রাইস নীচে পৌঁছায় এবং এইভাবে একটি বিয়ারিশ ক্যান্ডেল তৈরি হয়।এই বিয়ারিশ ক্যান্ডেলস্টিকটি সাধারণত একটি মারুবোজু যার কোন উপরের বা নীচের ছায়া থাকে না।পরবর্তী ক্যান্ডেলস্টিকের ওপেনিং আগের বিয়ারিশ ক্যান্ডেলস্টিকের ক্লোজিং পয়েন্টের নিচে।bulls বাড়লে দাম বাড়তে থাকে।দিনের শেষে, bulls দাম বাড়াতে সফল হয় এবং ক্লোজিং প্রাইস আগের বিয়ারিশ ক্যান্ডেলস্টিকের মাঝামাঝি থেকে বেশি।

কিভাবে পিয়ার্সিং প্যাটার্ন ব্যবহার করবেন?

বিনিয়োগকারীদের কিছু বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর দিতে হবে যখন তারা ভেদন প্যাটার্নের সাথে ট্রেড করবে:

প্রথমত, ট্রেন্ডটি ডাউনট্রেন্ড হওয়া উচিত, কারণ প্যাটার্নটি একটি বুলিশ রিভার্সাল প্যাটার্ন।

দ্বিতীয়ত, ক্যান্ডেলস্টিকের দৈর্ঘ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যে শক্তির সাথে বিপরীতটি ঘটবে তা নির্ধারণ করতে।


বিয়ারিশ এবং বুলিশ ক্যান্ডেলস্টিকগুলির মধ্যে ব্যবধান কম হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে ট্রেন্ড রিভার্সাল কতটা শক্তিশালী হবে।

চতুর্থত, বুলিশ ক্যান্ডেলস্টিক আগের বিয়ারিশ ক্যান্ডেলস্টিকের মধ্যবিন্দুর চেয়ে বেশি বন্ধ হওয়া উচিত।

সবশেষে, বিয়ারিশ, সেইসাথে বুলিশ ক্যান্ডেলস্টিক, বড় শরীর থাকা উচিত।


নীচে সান ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দৈনিক চার্টে ভেদন প্যাটার্নের একটি উদাহরণ রয়েছে।



এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে পেয়ারিং প্যাটার্ন দ্বারা সংকেত ট্রেন্ড রিভার্সালের জন্য উপরে উল্লিখিত সমস্ত বৈশিষ্ট্য পূর্ণ হয়েছে যাতে কেউ একটি দীর্ঘ অবস্থানে প্রবেশ করতে পারে।

পিয়ার্সিং প্যাটার্নের জন্য আদর্শ ট্রেডিং সেটআপ

যখন একজন ব্যবসায়ী একটি নির্দিষ্ট স্টক চার্টে একটি piercing candlestick চার্ট প্যাটার্ন দেখেন, তখন তার অপেক্ষা করা উচিত যতক্ষণ না পূর্বের বিয়ারিশ ক্যান্ডেল দ্বারা প্রথম ক্যান্ডেলস্টিকের উচ্চতা সফল হয়।


পেয়ারসিং ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্নের সাথে ট্রেড করার সময় এটি একটি আদর্শ ট্রেড সেটআপ।


আগের বিয়ারিশ ক্যান্ডেলের স্টপ লস কম হওয়া উচিত।এই প্যাটার্নটি দিন এবং সুইং ট্রেডারদের জন্য আরও উপযুক্ত কারণ দীর্ঘ সময়-ফ্রেমে সাফল্যের হার বেশ বেশি। এছাড়াও, অন্যান্য প্রযুক্তিগত সূচকগুলির সাথে এই প্যাটার্ন দ্বারা প্রদত্ত সংকেতগুলি নিশ্চিত করতে ভুলবেন না।আপনি স্টকএজ অ্যাপ ব্যবহার করে পরের দিন ট্রেড করার জন্য স্টক ফিল্টার করতে প্রযুক্তিগত স্ক্যান ব্যবহার করতে পারেন, যা এখন ওয়েব সংস্করণেও উপলব্ধ।

Key Takeaways:

  1. piercing প্যাটার্ন দুটি ক্যান্ডেলস্টিক দিয়ে তৈরি, প্রথমটি বিয়ারিশ এবং দ্বিতীয়টি একটি বুলিশ ক্যান্ডেলস্টিক।
  2. পিয়ার্সিং ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন হল একটি বুলিশ রিভার্সাল প্যাটার্ন যা ডাউনট্রেন্ডের শেষে পাওয়া যায়।
  3. এটি একটি ডাউনট্রেন্ডের শেষের দিকে পাওয়া যায় এবং এটি অন্ধকার মেঘের আবরণের মতোই।
  4. এই প্যাটার্নের সাথে ট্রেড করার সময় বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর দিতে হবে।
  5. এছাড়াও, অন্যান্য প্রযুক্তিগত সূচকগুলির সাথে এই প্যাটার্ন দ্বারা প্রদত্ত সংকেতগুলি নিশ্চিত করতে ভুলবেন না।


আপনি এই ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন  খুঁজে পেয়েছেন? নীচে মন্তব্য করে আমাদের বলুন।

সোমবার, ১৬ মে, ২০২২

মে ১৬, ২০২২

সকাল-সন্ধ্যা মাসনুন আমল ও দোয়া




ফজর বাদ দোয়া

১. আল্লাহর রাসূল ফজরের সালাম ফিরিয়ে বলতেন,
اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا، وَرِزْقًا طَيِّبًا، وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً.
(আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইলমান নাফিআন, ওয়া রিযকান তাইয়িবান, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা।)
হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে উপকারী ইলম, উত্তম রিযিক, কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৯২৫)।
২. ফজরের পর তিনবার এই কালেমাগুলো পড়বো,
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه، عَدَدَ خَلْقِه، وَرِضَا نَفْسِه، وَزِنَةَ عَرْشِه، وَمِدَادَ كَلِمَاتِه.
(সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী, আদাদা খালকিহী, ওয়া রিদা নাফসিহী, ওয়া যিনাতা আরশিহী, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।)
‘আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি (তাসবীহ পাঠ করছি) ও তাঁর প্রশংসা করছি, তাঁর সমস্ত সৃষ্টির পরিমাণসম, তাঁর সন্তুষ্টি লাভের পরিমাণসম, তাঁর আরশের ওযনসম, তাঁর সমস্ত বাক্য লেখার কালিসম (মুসলিম, হাদিস নং : ১৫০৩)।’

৩. সকাল-সন্ধ্যা তিনবার করে দুআটি পড়বো,
رَضِيتُ بِاللهِ رَبًّا، وَّبِالإِسْلامِ دِينًا، وَّبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا.
(রাদীতু বিল্লাহি রাব্বাওঁ ওয়া বিল ইসলামি দীনাওঁ ওয়াবিমুহাম্মাদিন নাবিয়্যান।)
‘যে ব্যক্তি সকালে বলবে, আমি আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি, ইসলামকে দীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি, মুহাম্মাদকে নবীরূপে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি। আমি আল্লাহ এই দুআপাঠকারীর যিম্মাদার হয়ে যাবো। হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত থামবো না (তাবারানী, মুজামে কাবীর, হাদীস নং : ১৭৫৯৪)।

৪. তাসবীহ-তাহমীদ

সকাল-সন্ধ্যায় একশবার করে পড়বো,
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ.
(সুবহা-নাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি)
‘আমি আল্লাহর সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করছি (বুখারী ৬০৪২)।’

৫. নিশ্চিত সুরক্ষা

১. প্রতি সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়বো,
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ.
(আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি, মিন শাররি মা খালাক।)
‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ ‘কালিমাসমূহ (বাক্য)-এর মাধ্যমে সৃষ্টিজীবের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি (মুসলিম, হাদিস নং : ২৭০৯)।

২. অপরিচিত কোথাও গেলে, নতুন ঘরে উঠলে, উন্মুক্ত-অরক্ষিত স্থানে অবস্থানকালে, বনে-বাদাড়ে যেতে হলে, রাতে নতুন কোথাও গাড়ি থেকে নামলে দুআখানা পড়ে নেব (মুসলিম, হাদিস নং : ২৭০৮)।

৬. আল্লাহর নিরাপত্তা

সকাল-সন্ধ্যায় সাতবার করে পড়বো,
حَسْبِيَ اللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ.
(হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়াহুয়া রব্বুল আরশিল আযীম।)
‘আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি তাঁর উপরই ভরসা করি। আর তিনি মহান আরশের রব (হিসনুল মুসলিম)।’

৭. সাক্ষ্য ও সুরক্ষা

সকাল-সন্ধ্যায় একবার করে পড়বো,
اَللّٰهُمَّ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّآ أَنْتَ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِه، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلٰى نَفْسِيْ سُوْءًا، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ.
(আল্লাহুম্মা আলিমাল গাইবি ওয়াশ্শাহাদাতি ফাত্বিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি, রব্বা কুল্লি শাইইন ওয়া মালীকাহু, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা। আউযু বিকা মিন শাররি নাফ্সী ওয়া মিন শাররিশ শাইত্বানি ওয়াশারাকিহী ওয়া আন আক্বতারিফা আলা নাফ্সীন সূআন আউ আজুররাহূ ইলা মুসলিমিন।)
‘হে আল্লাহ! হে দৃশ্যমান ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, হে সব কিছুর রব ও মালিক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্টতা থেকে ও তার শিরক বা তার ফাঁদ থেকে, আমার নিজের উপর কোনো অনিষ্ট করা, অথবা কোনো মুসলিমের দিকে তা টেনে নেওয়া থেকে (তিরমিযী, হাদিস নং : ৩৩৯২)।’
৮. সূরা হাশরের তিন আয়াত
প্রথমে তিনবার পড়বো,
أَعُوْذُ بِاللهِ السَّمِيْعِ الْعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ.
(আউযু বিল্লাহিস সামীইল আলীমি মিনাশ শাইত্বনির রজীম।)
‘আমি সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, অভিশপ্ত শয়তান থেকে।’
তারপর সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পড়বো (তিরমিযী, হাদিস নং : ২৯২২),
هُوَ اللهُ الَّذِیْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ عٰلِمُ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَۃِ ۚ هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِیْمُ ﴿۲۲﴾
‘তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি গুপ্ত ও প্রকাশ্য সব কিছুর জ্ঞাতা। তিনি সকলের প্রতি দয়াবান, পরম দয়ালু।’
هُوَ اللهُ الَّذِیْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ اَلْمَلِكُ الْقُدُّوْسُ السَّلٰمُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَیْمِنُ الْعَزِیْزُ الْجَبَّارُ الْمُتَکَبِّرُ ؕ سُبْحٰنَ اللهِ عَمَّا یُشْرِكُوْنَ ﴿۲۳﴾
‘তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি বাদশাহ, পবিত্রতার অধিকারী, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদাতা, সকলের রক্ষক, মহা ক্ষমতাবান, সকল দোষত্রুটি হতে সংশোধনকারী, গৌরবান্বিত, তারা যে শিরক করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।’
هُوَ اللهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰی ؕ یُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ۚ وَ هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَکِیْمُ ﴿ ۲۴﴾
‘তিনিই আল্লাহ, যিনি সৃষ্টিকর্তা অস্তিত্বদাতা, রূপদাতা, সর্বাপেক্ষা সুন্দর নামসমূহ তাঁরই, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা—কিছু আছে তা তাঁর তাসবীহ পাঠ করে এবং তিনিই ক্ষমতাময়, হেকমতের মালিক (সূরা হাশর : ২২-২৪)।

৯. তিন কুল

সকাল ও সন্ধ্যায় সূরা ইখলাস তিনবার ও সূরা ফালাক এবং সূরা নাস তিনবার করে পড়ে নিবে (তিরমিযী, হাদিস নং : ৩৫৭৫)।
১০. জান্নাতের টিকেট

সকাল-সন্ধ্যায় সাইয়েদুল একবার করে ইস্তেগফার পড়বো,
اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوْءُ لَكَ بِذَنْبِيْ فَاغْفِرْ لِيْ، فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ.
(আল্লাহুম্মা! আনতা রাব্বী লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা, খালাকতানী ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আ‘লা আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাস্তাতো‘তু, আউযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু, আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবূউ লাকা বিযামবি ফাগফির লী, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা!)
হে আল্লাহ, আপনি আমার রব। আপনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি আপনার বান্দা। আমি সাধ্যানুযায়ী আপনার প্রতি কৃত ওয়াদা রক্ষার চেষ্টা করছি। আপনাকে দেয়া প্রতিশ্রুতির অধীনে থাকার চেষ্টা করছি! আমার মন্দকর্মের ব্যাপারে আপনার পানাহ চাই! আমার প্রতি আপনার নেয়ামতের কথা অকুণ্ঠচিত্তে স্মরণ করছি। আমার পাপের কথাও স্বীকার করছি। আমাকে ক্ষমা করুন। আপনি ছাড়া আর কেউ ক্ষমা করতে পারবে না (বুখারি: ৬৩০৬)।’

১১. সকাল সন্ধ্যার সুরক্ষা

সকাল-সন্ধ্যায় দুআটি একবার করে পড়বো। সকালে পড়বো,
أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، لۤاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِيْ هٰذِا الْيَوْمِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهُ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيْ هٰذَا الْيَوْمِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ، رَبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوْءِ الْكِبَرِ، رَبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ.
(আসবাহনা ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লাহ। ওয়াল হামদুলিল্লাহ। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। ওয়াহদাহু লা শারীকালাহ। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদ। ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। রাব্বি, আসআলুকা খাইরা মা ফী হা-যাল ইয়াওমি ওয়া খাইরা মা বা‘দাহু। ওয়া আউযু বিকা মিন শাররি মা ফী হা-যাল ইয়াওমি ওয়া শাররি মা বা‘দাহু। রাব্বি, আউযু বিকা মিনাল কাসালি ওয়া সূঈল কিবারি। রাব্বি, আউযু বিকা মিন আযাবিন ফিন্না-রি ওয়া আযাবিন ফিল-কাবরি।)
‘আমরা সকালে উপনীত হয়েছি। সমস্ত ক্ষমতাও আল্লাহর কুক্ষিগত হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তার কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তার। প্রশংসাও তার। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
হে আমার প্রতিপালক, আমি আপনার কাছে এ রাতের সমস্ত কল্যাণ প্রার্থনা করছি। রাতের পরে যত কল্যাণ আছে, তাও কামনা করছি।
এই দিনের সমস্ত অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। দিনের পরে আসা সমস্ত অকল্যাণ থেকেও মুক্তি কামনা করছি। আমি অলসতা থেকে কষ্টকর বার্ধক্য থেকে পানাহ চাচ্ছি। জাহান্নামের আযাব ও কবরের আযাব থেকেও পানাহ চাচ্ছি।’
সন্ধ্যায় পড়বো
أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلّٰهِ، وَالْحَمْدُ لِلّهِ، لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ، وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، رَبِّ أَسْأَلُكَ خَيْرَ مَا فِيْ هٰذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرَ مَا بَعْدَهَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيْ هٰذِهِ اللَّيْلَةِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا، رَبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَسُوْءِ الْكِبَرِ، رَبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ وَعَذَابٍ فِي الْقَبْرِ.
‘আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি। সমস্ত ক্ষমতাও আল্লাহর কুক্ষিগত হয়েছে। প্রমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তার কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তার। প্রশংসাও তার। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
হে আমার প্রতিপালক, আমি আপনার কাছে এ রাতের সমস্ত কল্যাণ প্রার্থনা করছি। রাতের পরে যত কল্যাণ আছে—তাও কামনা করছি।
এই রাতের সমস্ত অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। রাতের পরে আসা সমস্ত অকল্যাণ থেকেও মুক্তি কামনা করছি। আমি অলসতা থেকে এবং কষ্টকর বার্ধক্য থেকে পানাহ চাচ্ছি। জাহান্নামের আযাব ও কবরের আযাব থেকেও পানাহ চাচ্ছি (মুসলিম: ২৭২৩)।’

১২. বিজয় কামনা

সকাল-সন্ধ্যায় দুআটি একবার করে পড়বো। সকালে পড়বো,
أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَيْرَ هٰذَا الْيَوْمِ فَتْحَهُ، وَنَصْرَهُ، وَنُوْرَهُ، وَبَرَكَتَهُ، وَهُدَاهُ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيْهِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهُ.
(আসবাহনা ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরা হাযাল ইয়াওমি ওয়া ফাতহাহু ওয়া নাসরাহু ওয়া বারাকাতাহু ওয়া হুদাহু, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররি মা ফীহি ওয়া শাররি মা বাদাহু।)
‘আমরা সকালে উপনীত হয়েছি, অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও সকালে উপনীত হয়েছে সৃষ্টিকুলের রব্ব আল্লাহ্র জন্য। হে আল্লাহ, আপনার কাছে এই দিনটির কল্যাণ, এই দিনটির অবাধ জয়, এই দিনটির নুসরত-সাহায্য, এই দিনটির নূর, এই দিনটির বরকত এবং এই দিনটির হেদায়াত প্রার্থনা করছি। এই দিনের অনিষ্ট ও তার পরের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’
সন্ধ্যায় পড়বো
أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ خَيْرَ هٰذِهِ اللَّيْلَةِ :فَتْحَهَا، وَنَصْرَهَا، وَنُوْرَهَا، وَبَرَكَتَهَا، وَهُدَاهَا، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيْهَا وَشَرِّ مَا بَعْدَهَا.
(আমসাইনা ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরা হাযিহিল লাইলাতি ওয়া ফাতহাহা ওয়া নাসরাহা ওয়া বারাকাতাহা ওয়া হুদাহা, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররি মা ফীহা ওয়া শাররি মা বাদাহা।)
‘আমরা বিকেলে উপনীত হয়েছি। অনুরূপ যাবতীয় রাজত্বও বিকেলে উপনীত হয়েছে সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহ্র জন্য। হে আল্লাহ, আপনার কাছে এই রাতটির কল্যাণ, এই রাতটির অবাধ জয়, এই রাতটির নুসরত-সাহায্য, এই রাতটির নূর, এই রাতটির বরকত এবং এই রাতটির হেদায়াত প্রার্থনা করছি। এই রাতটির অনিষ্ট ও তার পরের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি (আবূ দাউদ, হাদিস নং : ৫০৮৪)।’

১৩. শাহাদাহ

সকালে ও সন্ধ্যায় চারবার করে বলব। সকালে বলব,
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَصْبَحْتُ أُشْهِدُكَ وَأُشْهِدُ حَمْلَةَ عَرْشِكَ وَمَلَائِكَتِكَ وَجَمِيْعَ خَلْقِكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُوْلُكَ.
(আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসবাহ্তু উশহিদুকা ওয়া উশহিদু হামালাতা আরশিকা ওয়া মালা-ইকাতাকা ওয়া জামী‘আ খালক্বিকা, আন্নাকা আনতাল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা আনতা ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আব্দুকা ওয়া রাসূলুকা।)
‘হে আল্লাহ! আমি সকালে উপনীত হয়েছি। আপনাকে সাক্ষী রাখছি, সাক্ষী রাখছি—আপনার আরশ বহনকারীগণকে, আপনার ফেরেশতাগণকে ও আপনার সকল সৃষ্টিকে, এ বিষয়ে যে, নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আর মুহাম্মাদ সা. আপনার বান্দা ও রাসূল।’
সন্ধ্যায় বলব,
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَمْسَيْتُ أُشْهِدُكَ وَأُشْهِدُ حَمْلَةَ عَرْشِكَ وَمَلَائِكَتَك وَجَمِيْعَ خَلْقِكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُوْلُكَ.
(আল্লা-হুম্মা ইন্নী আমসাইতু উশহিদুকা ওয়া উশহিদু হামালাতা আরশিকা ওয়া মালা-ইকাতাকা ওয়া জামী‘আ খালক্বিকা, আন্নাকা আনতাল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা আনতা ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আব্দুকা ওয়া রাসূলুকা।)
‘হে আল্লাহ! আমি সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি। আপনাকে সাক্ষী রাখছি সাক্ষী রাখছি আপনার আরশ বহনকারীগণকে, আপনার ফেরেশতাগণকে ও আপনার সকল সৃষ্টিকে, এ বিষয়ে যে, নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, একমাত্র আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আর মুহাম্মাদ সা. আপনার বান্দা ও রাসূল (আবূ দাউদ, হাদিস নং : ৫০৬৯, হাসান)।

১৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি

সকাল-সন্ধ্যায় কারো সাথে কথা বলার আগে, সাতবার করে পড়বো,
اَللّٰهُمَّ أَجِرْنِيْ مِنَ النَّارِ.
(আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান নার।)
‘হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করুন (আবূ দাউদ, হাদিস নং : ৫০৭৯)।’

১৫. নেয়ামতের শোকর

সকাল-সন্ধ্যায় দুআটি পড়বো। সকালে পড়বো,
اَللّٰهُمَّ مَا أَصْبَحَ بِيْ مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِّنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ.
(আল্লা-হুম্মা মা আসবাহা বী মিন নি‘মাতিন আও বিআহাদিন মিন খালক্বিকা ফামিনকা ওয়াহ্দাকা লা শারীকা লাকা, ফালাকাল হাম্দু ওয়ালাকাশ্ শুকরু।)
হে আল্লাহ! আজ যে নেয়ামত নিয়ে আমার সকাল হল অথবা আপনার অন্য কোনো সৃষ্টির সকালও যে নেয়ামত-অনুগ্রহ নিয়ে হল, এর সবই কেবল আপনারই দান। আপনার কোনো শরীক নেই। তাই সকল প্রশংসা শুধু আপনারই। সকল কৃতজ্ঞতাও আপনারই প্রাপ্য।
সন্ধ্যায় পড়বো,
اَللّٰهُمَّ مَا أَمْسٰى بِيْ مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِّنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ.
(আল্লা-হুম্মা মা আমসা বী মিন নি‘মাতিন আও বিআহাদিন মিন খালক্বিকা ফামিনকা ওয়াহ্দাকা লা শারীকা লাকা, ফালাকাল হাম্দু ওয়ালাকাশ্ শুকরু।)
‘হে আল্লাহ! আজ যে নেয়ামত নিয়ে আমার সন্ধ্যা হলো অথবা আপনার অন্য কোনো সৃষ্টির সন্ধ্যা যে নেয়ামত-অনুগ্রহ নিয়ে হলো, এর সবই কেবল আপনারই দান। আপনার কোনো শরীক নেই। তাই সকল প্রশংসা শুধু আপনারই। সকল কৃতজ্ঞতাও আপনারই প্রাপ্য (তারগীব তারহীব : ১/৩০৯, হাসান)।’

১৬. সকাল-সন্ধ্যার মুনাজাত

সকাল-সন্ধ্যায় দুআটি পড়বো। সকালে পড়বো,
اَللّٰهُمَّ بِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ أَمْسَيْنَا، وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوْتُ، وَإِلَيْكَ النُّشُوْرُ.
(আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা ওয়া বিকা আমসাইনা, ওয়া বিকা নাহইয়া ওয়া বিকা নামূতু, ওয়া ইলাইকান নুশূর।)
‘আল্লাহুম্মা! আপনার সাহায্যে আমি সকাল যাপন করি। আপনার সাহায্যে আমি সন্ধ্যা যাপন করি। আপনার সাহায্যে আমি জীবিত থাকি। আপনিই আমার মৃত্যু ঘটান। আপনার কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন।’
সন্ধ্যায় পড়বো
اَللّٰهُمَّ بِكَ أَمْسَيْنَا وَبِكَ أَصْبَحْنَا وَبِكَ نَحْيَا وَبِكَ نَمُوْتُ، وَإِلَيْكَ النُّشُوْرُ وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ.
(আল্লাহুম্মা বিকা আমসাইনা, ওয়া বিকা আসবাহনা, ওয়া বিকা নাহইয়া, ওয়া বিকা নামূতু, ওয়া ইলাইকান নুশূর, ওয়া ইলাইকাল মাসীর।)
‘আল্লাহুম্মা! আপনার সাহায্যে আমি সন্ধ্যা যাপন করি। আপনার সাহায্যে আমি সকাল যাপন করি। আপনার সাহায্যে আমি জীবিত থাকি। আপনিই আমার মৃত্যু ঘটান। আপনারই কাছে আমার পুনরুজ্জীবন। আপনার কাছেই আমার প্রত্যাবর্তন (তিরমিযী, হাদিস নং : ৩৩৯১)।’

১৭. সুস্থতা কামনা

১. আল্লাহর রাসূল সকাল-সন্ধ্যায় এই দুআ পড়তেন,
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ دِيْنِيْ وَدُنْيَايَ وَأَهْلِيْ وَمَالِيْ، اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَتِيْ وَآمِنْ رَوْعَاتِيْ؛
اَللّٰهُمَّ احْفَظْنِيْ مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِيْ وَعَنْ يَمِيْنِيْ وَعَنْ شِمَالِيْ وَمِنْ فَوْقِيْ، وَأَعُوْذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِيْ.
(আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাতি। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফী দীনি ওয়া দুনইয়ায়া ওয়া আহলী ওয়া মালী। আল্লাহুম্মাসতুর আওরাতী ওয়া আমিন রাওআতী। আল্লাহুম্মাহফাযনী মিম্বাইনি ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খালফী ওয়া আন ইয়ামীনি ওয়া আন শিমালী ওয়া মিন ফাওকী ওয়া আউযু বিআযামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতী।)
‘আল্লাহুম্মা! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতে সুস্থতা কামনা করছি।
আল্লাহুম্মা! আমি আপনার কাছে আমার দীন ও দুনিয়া, আমার ধনে-জনের ব্যাপারে ক্ষমা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি।
আল্লাহুম্মা! আমার দোষত্রুটি ঢেকে দিন। আমার ভয়ভীতি দূর করে দিন।
আল্লাহুম্মা! আমাকে সামনে ও পেছনের দিক থেকে, ডান ও বাম দিক থেকে, উপরের দিক থেকে হেফাযত করুন। আর নিচের দিক থেকে আসা অতর্কিত আক্রমণে নিহত হওয়া থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি (আবু দাউদ: ৫০৭৪)।
২. এছাড়াও নবীজি সা. পড়তেন,
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْئَلُكَ الصِّحَّةَ وَالْعِفَّةَ وَالْأَمَانَةَ وَحُسْنِ الخُلُقِ والرِّضَا بِالْقَدْرِ.
(আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাস সিহহাতা, ওয়াল ইফফাতা, ওয়াল আমানাতা, ওয়া হুসনিল খুলুকি, ওয়ার রিদা বিল কাদরি।)
‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে সুস্থতা, চারিত্রিক নিষ্কলুষতা, আমানতদারিতা, উত্তম চরিত্র ও তাকদীরে সন্তুষ্টি প্রার্থনা করছি (কানযুল উম্মাল, হাদিস নং : ৫০৯৩)।’
৩. আরেকবার চরম কষ্টের সময় নবীজি সা. এই দুআ পড়েছিলেন,
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْئَلُكَ تَعْجِيْلَ عَافِيَتِكَ وَصَبْرًا عَلٰى بَلِيَّتِكَ وَخُرُوْجًا مِّنَ الدُّنْيَا إِلٰى رَحْمَتِكَ.
(আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা তাজীলা আফিয়াতিকা ওয়া সাবরান আলা বালিয়্যাতিকা ওয়া খুরুজাম মিনাদ দুনইয়া ইলা রাহমাতিকা।)
‘হে আল্লাহ, আপনি আমাকে দ্রুত নিরাপত্তা দান করুন এবং বিপদে সবর করার তাওফীক দান করুন। দুনিয়া থেকে আপনার রহমতের ছায়াতলে চলে যাওয়ার প্রার্থনা করছি (কানযুল উম্মাল, হাদিস নং : ৩৬৯৯)।’
৪. সরাসরি মৃত্যু কামনার পরিবর্তে নবীজি সা. এই দুআ পড়তে শিখিয়েছেন,
اَللّٰهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبِ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ أَحْيِنِيْ مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِّيْ وَتَوَفَّنِيْ إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِّيْ.
(আল্লাহুম্মা বিইলমিকাল গাইবি, ওয়া কুদরাতিকা আলাল খালকি, আহয়িনী মা আলিমতাল হায়াতা খাইরাল লী, ওয়া তাওয়াফফানী ইযা আলিমতাল ওয়াফাতা খাইরাল লী।)
‘হে আল্লাহ, আমি আপনার গাইবের জ্ঞানের দোহাই দিয়ে এবং সৃষ্টির উপর বিরাজমান আপনার কুদরতের দোহাই দিয়ে প্রার্থনা করছি, আপনার জ্ঞানে যতক্ষণ পর্যন্ত আমার জীবিত থাকা কল্যাণকর হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাকে জীবিত রাখুন। আপনার জ্ঞানে যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তখন আমাকে মৃত্যু দিন (নাসাঈ, হাদিস নং : ১৩০৫)।’
১৮. সকাল-সন্ধ্যার আশ্রয়
নবীজি সা. তার আদরের কন্যা ফাতিমাকে সকাল-সন্ধ্যা পড়তে বলেছেন,
يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ، أَصْلِحْ لِيْ شَأْنِيْ كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِيْ إِلَى نَفْسِيْ طَرَفَةَ عَيْنٍ
(ইয়া হাইয়ু কাইয়ূমু, বিরাহমাতিকা আসতাগীস, আসলিহ লী শানী কুল্লাহু, ওয়ালা তাকিলনী ইলা নাফসী তারাফাতা আইনিন।)
‘হে চিরঞ্জীব! হে সর্বনিয়ন্তা! আপনার রহমাতের উসীলায় সাহায্য প্রার্থনা করছি। আমার সকল বিষয়কে সংশোধন করে দিন (উপকারী বানিয়ে দিন)। এক মুহূর্তের জন্যেও আমার (রক্ষণাবেক্ষণের) দায়িত্ব আমার উপর চাপাবেন না (হাকেম, হাদিস নং : ২০০০, আনাস বিন মালিক রা.-এর সূত্রে।)।
১৯. সকাল-সন্ধ্যার ইস্তেআযা
১. আবু বকর সিদ্দীক রা. একদিন বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সকাল ও সন্ধ্যায় পড়ার জন্যে আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন। আবা বাকর! তুমি সকাল ও সন্ধ্যায় পড়বে,
اَللّٰهُمَّ فَاطِرَ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ رَبَّ كُلَّ شَيْءٍ وَمَلِيْكَهُ، أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ، وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشَرَكِه، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلٰى نَفْسِيْ سُوْءًا أَوْ أَجُرَّهُ إِلٰى مُسْلِمٍ
(আল্লাহুম্মা ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি, আলিমাল গাইবি ওয়াশ শাহাদাতি, রাব্বা কুল্লি শাইয়িন ওয়া মালীকাহু। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা। আউযু বিকা মিন শাররি নাফসী, ওয়া শাররিশ শাইত্বনি, ওয়া শারাকিহি, ওয়া আন আকতারিফা আলা নাফসী সূআন, আও আজুররাহু ইলা মুসলিমিন।)
‘আল্লাহুম্মা! আপনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা। আপনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞানী! আপনি সবকিছু রব ও মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। আমার নফসের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় কামনা করছি। শয়তান ও তার চক্রান্ত- কৌশল থেকে পানাহ চাইছি। নিজে মন্দকর্ম করা ও অপর মুসলিম ভাইকে মন্দকর্মের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া থেকে আপনার পানাহ চাইছি (তিরমিযী, হাদিস নং : ৩৫২৯)।
২. আরেক বর্ণনা আছে, এই দুআটা তুমি সকাল-সন্ধ্যায় পড়বে। আবার শোয়ার সময়ও পড়বে (আবু দাউদ, হাদিস নং : ৫০৬৭)।
২০. অনিষ্ট রোধে বিসমিল্লাহ
সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়বো,
بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِه، شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيْعُ العَلِيْمُ.
(বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মাআসমিহী শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামাই, ওয়া হুয়াস সামীউল আলীম।)
‘আল্লাহর নামে (দিবস বা রজনি) শুরু করছি। আল্লাহর নামে শুরু করলে, আসমান ও জমীনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আল্লাহ সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞ (তিরমিজী, হাদিস নং : ৩৩৮৮)।’
২১. ঋণ পরিশোধ
নবীজি ঋণ পরিশোধের জন্য এই দুআটি পড়তেন,
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالكَسَلِ، وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ.
(আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযান, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসাল। ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া দালাইদ দাইনি, ওয়া গালাবাতির রিজাল।)
‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার দুশ্চিন্তা, পেরেশানী, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণের গুরুভার ও মানুষের প্রবল দাপটের সম্মুখীন হওয়া থেকে আশ্রয় চাই (বুখারী, হাদিস নং : ৬০০২)।’
২২. কুফর দারিদ্র থেকে মুক্তি
১. নবীজি নামাযের পর পড়তেন,
اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ، وَعَذَابِ الْقَبْرِ.
(আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি ওয়া আযাবিল কাবরি।)
‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কুফরি, দারিদ্র্য ও কবরের আজাব থেকে মুক্তি চাই (নাসাঈ, হাদিস নং : ৭৯০১)।’
২. এই দুআটিও সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়তে পারি,
اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَدَنِي، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ سَمْعِيْ، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِي بَصَرِيْ، لاَ إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ. اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ.
(আল্লাহুম্মা আফিনী ফী বাদানী, আল্লাহুম্মা আফিনী ফী সামঈ, আল্লাহুম্মা আফিনী ফী বাসারী, লা ইলাহা ইল্লা আনতা। আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল কুফরি, ওয়াল ফাকরি। আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন আযাবিল কাবরি। লা ইলাহা ইল্লা আনতা।)
‘হে আল্লাহ, আপনি আমার শরীরে সুস্থতা দান করুন। ইয়া আল্লাহ আপনি আমার শ্রবণশক্তিতে সুস্থতা দান করুন। ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার দৃষ্টিশক্তিতে সুস্থতা দান করুন। আপনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কুফর ও দারিদ্র্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আজাব থেকে মুক্তি চাচ্ছি। আপনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই (আহমাদ, হাদিস নং : ২০৪৩০)।’
২৩. ফিতরাহর ঘোষণা
রাসূলুল্লাহ সকাল-সন্ধ্যায় দুআটি পড়তেন। সকালে বলতেন,
أَصْبَحْنَا عَلٰى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ، وَكَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ، وَدِيْنِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمِلَّةِ أَبِيْنَا إِبْرَاهِيْمَ حَنِيْفًا، وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ.
(আসবাহনা আলা ফিতরাতিল ইসলাম। ওয়া কালিমাতিল ইখলাসি, ওয়া দীনি নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা, ওয়া মিল্লাতি আবীনা ইবরাহীমা হানীফা, ওয়ামা কানা মিনাল মুশরিকীন।)
‘ইসলামের ফিতরাহর উপর আমাদের প্রভাত হলো। কালিমায়ে তাইয়িবার উপর আমাদের ভোর হলো। মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দীনের উপর আমাদের সকাল হলো। আমাদের পিতা একনিষ্ঠ ইবরাহীমের ধর্মের উপর আমাদের দিন শুরু হলো। আর ইবরাহীম মোটেও মুশরিক ছিলেন না।’
সন্ধ্যায় নবীজি পড়তেন,
أَمْسَيْنَا عَلٰى فِطْرَةِ الْإِسْلَامِ، وَكَلِمَةِ الْإِخْلَاصِ، وَدِيْنِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمِلَّةِ أَبِيْنَا إِبْرَاهِيْمَ حَنِيْفًا، وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ.
(আমসাইনা আলা ফিতরাতিল ইসলাম। ওয়া কালিমাতিতল ইখলাসি, ওয়া দ্বীনি নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা, ওয়া মিল্লাতি আবীনা ইবরাহীমা হানীফা, ওয়ামা কানা মিনাল মুশরিকীন (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ১৫৩৬০)
২৪. স্বাস্থ্য ও শ্রবণদৃষ্টির সুস্থতা
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিন্মোক্ত দুআটি সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়তেন,
اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَدَنِيْ، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ سَمْعِيْ، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَصَرِيْ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ؛
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ.
‘হে আল্লাহ! আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন—আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ! আমাকে সুস্থ রাখুন—আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কুফরী ও দরিদ্রতা থেকে আশ্রয় চাইছি। হে আল্লাহ! আমি কবরের আযাব থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি, আপনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই (আবূ দাউদ, হাদিস নং : ৫০৯০)।’
২৫. একশবার তাসবীহ
সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস রা. বর্ণনা করেছেন, আমরা আল্লাহর রাসূলের সাথে বসা ছিলাম। নবীজি তখন বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার নেকী অর্জন করতে সক্ষম? তখন সেখানে উপবিষ্টদের মধ্য থেকে এক প্রশ্নকারী বলল, আমাদের কেউ কিভাবে এক হাজার নেকী অর্জন করতে পারবে? নবীজি বললেন, যে একশবার তাসবীহ (سُبْحَانَ اللهِ) পাঠ করবে, তার জন্য এক হাজার নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে (অথবা) এবং তার থেকে এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে (মুসলিম, হাদিস নং : ২৬৯৮)।
২৬. সকাল-সন্ধ্যার তাওহীদ
প্রতি সকালে একশবার পড়বো,
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ.
(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।)
‘এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই। তাঁর কোনো শরীক নেই। সমস্ত রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। তিনিই সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান (হিসনুল মুসলিম)।’
২৭. ফজর ও মাগরিবে শাহাদাহ
ফজর ও মাগরিবের পর, হাঁটু মোড়া অবস্থাতেই কারো সাথে কথা বলার আগে দশবার পড়বো,
لَا إلٰهَ إلَّا اللهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ.
(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ইউহয়ী ওয়া ইয়ামূতু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।)
‘একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তাঁর কোনো শরীক নেই। সর্বরাজত্ব তাঁরই। সমস্ত প্রশংসাও তার। তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন। আর তিনিই সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান (তিরমিযী, হাদিস নং : ৩৪৭৪; ইবনু হিব্বান, হাদিস নং : ২০২৩)।’
২৮. ইস্তেগফার
প্রতিদিন একশবার ইস্তেগফার করব,
أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ.
(আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি।)
আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাওবা করছি।
‘আমি দিনে একশবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি ও তাওবা করি (তিরমিযী, হাদিস নং : ৩২৫৯)।’
২৯. নবীজির প্রতি দুরূদ
প্রতিদিন অন্তত দশবার দুরূদ পাঠ করবো,
اَللّٰهُمَّ صَلِّ وَ سَلِّمْ عَلٰى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ.
(আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ।)
‘ইয়া আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন (মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ১০/১২০)।’
৩০. সকাল সকাল
১. নবীজি সা. আমাদের বরকতময় সকালের জন্য দুআ করে গেছেন,
اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لِأُمَّتِيْ فِيْ بُكُوْرِهَا.
‘ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার উম্মতের সকালের মাঝে বরকত দান করুন (তিরমিযী, হাদিস নং : ১২১২)।’
২. নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকালেই গোটা দিন কেমন কাটাতে চান, তার খসড়া পরিকল্পনা করে ফেলতেন। আল্লাহর কাছে চাহিদামাফিক দুআ করতেন। দুআটি এই,
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ أَوَّلَ هٰذَا النَّهَارِ صَلَاحًا وَأَوْسَطَهُ فَلَاحًا وَّآخِرَهُ نَجَاحًا.
(আল্লাহুম্মাজআল আউয়ালা হাযান নাহারি সালাহান, ওয়া আওসাতুহু ফালাহান, ওয়া আখিরাহু নাজাহান।)
‘ইয়া আল্লাহ, এই দিনের প্রথম ভাগকে আমার জন্য পুণ্যময় করে দিন। মধ্যভাগকে সফল শ্রমমুখর করে দিন। শেষভাগকে অর্জনে পূর্ণ সাফল্যমণ্ডিত করে দিন (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদিস নং : ২৯৮৮৮)।’
৩১. শিশুর সুরক্ষা
১. যখন রাতের আঁধার নেমে আসে অথবা যখন সন্ধ্যা নেমে আসে, তখন তোমাদের শিশুদের (ঘরে) আটকে রাখবে। কেননা এ সময় শয়তানেরা ছড়িয়ে পড়ে। আর যখন রাতের কিছু অংশ অতিক্রান্ত হয় তখন তাদেরকে ছেড়ে দিতে পারো। তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করবে। কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না (বুখারী, হাদিস নং : ৩১২৮)।’
২. তোমরা পাত্রগুলো ঢেকে রেখো, পান-পাত্রগুলো বন্ধ করে রেখো, ঘরের দরজাগুলো বন্ধ করে রেখো আর সাঁঝবেলায় তোমাদের শিশুদেরকে ঘরে আটকে রেখো। কেননা এ সময় জ্বিনেরা ছড়িয়ে পড়ে এবং ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। আর নিদ্রাকালে বাতিগুলো নিভিয়ে দিবে। কেননা অনেক সময় ছোট ছোট অনিষ্টকারী ইঁদুর প্রজ্বলিত সলতেযুক্ত বাতি টেনে নিয়ে যায় এবং গৃহবাসীকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয় (বুখারী, হাদিস নং : ৩১৩৮)।’
৩. তোমরা নিজেদের গৃহপালিত পশু এবং ছেলেমেয়েদেরকে সূর্যাস্তের সময় বের হতে দিও না, যতক্ষণ না রাতের প্রহরের কিছু অংশ অতিবাহিত হয়। কেননা সূর্যাস্তের পর থেকে রাতের কিয়দংশ (প্রথমাংশ) অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত শয়তান তৎপর হয়ে বিচরণ করতে থাকে (মুসলিম, হাদিস নং : ২০১৩)।
.
.
‘খুলুকিন আযীম’
মাওলানা আতিক উল্লাহ্
বি. দ্র. উপরোল্লিখিত বেশ কিছু দোয়া মুফতী সাহেব হুজুর নিয়মিত আমল করার তাগিদ দিয়ে থাকেন।
মে ১৬, ২০২২

তিরমিযি শরীফ ও তার বৈশিষ্ট্যাবলি


তিরমিযি শরীফ ও তার বৈশিষ্ট্যাবলি

ইমাম তিরমিযি রহ. এর জামে তিরমিযি প্রশিদ্ধ একটি কিতাব। গোটা উম্মত এ কিতাবকে ‘‘কুতুবে সিত্তাহ’’র অন্তর্ভূক্ত করেছেন। এ সম্পর্কে  ইমাম তিরমিযি রহ.  নিজেই বলেন,

 صنفت هذا المسند الصحيح وعرضته على علماء الحجاز قرضوا به وعرضه على علماء خراسان فرضوا به

অর্থাৎ ‘আমি এ সনদযুক্ত হাদীছ গ্রন্থখানি প্রণয়ন করে একে হিজাযের হাদীছবিদদের সমীপে পেশ করলাম। তারা এটা দেখে খুবই পসন্দ করলেন ও সন্তোষ প্রকাশ করলেন। এরপর আমি এ গ্রন্থকে খুরাসানের মুহাদ্দিছগণের খেদমতে পেশ করলাম। তারাও একে অত্যন্ত পসন্দ করেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন'।

ইমাম তিরমিযি রহ. আরোও বলেন,

من كان عنده هذا الكتاب الجامع ، فكأنما في بيته نبي يتكلم

অর্থাৎএই সার্বজনীন গ্রন্থটি যার কাছে থাকবে তার কাছে যেন নবী কথা বলছেন। (আল বিদায়া, ইবনে কাসীর ১১/৬৭)।

ইসলামকে সহজভাবে জানার ক্ষেত্রে তিরমিজী শরীফ সাধারণ পাঠকদের জন্য একখানি সুখপাঠ্য ও সহজবোধ্য হাদীস গ্রন্থ। শায়খুল ইসলাম হাফিয ইমাম আবু ইসমাঈল আবদুল্লাহ আনছারী তিরমিযী সম্পর্কে বলেন, 

كتابه عندى أنفع من كتاب البخاری و مسلم لأن كتابي البخاري ومسلم يقف على الفائدة منهما الا البحر العالم كتاب أبي عيسى يصل إلي قاندنه كل أخذ من الناس 

অর্থাৎ ‘আমার দৃষ্টিতে জামে তিরমিযী বুখারী ও মুসলিম গ্রন্থদ্বয় অপেক্ষা অধিক ব্যবহার উপযােগী। কেননা বুখারী ও মুসলিম এমন হাদীছগ্রন্থ যা হ'তে কেবল বিশেষ পারদর্শী আলেম ব্যতীত অপর কেউ ফায়দা লাভ করতে সমর্থ হয়। কিন্তু ইমাম আবু ঈসার গ্রন্থ হ’তে যেকোন লােক উপকারিতা হাছিল করতে পারে। 

এই কিতাবে এমন কিছু বৈশিষ্ট পাওয়া যায় যা অন্যান্য কিতাবে নেই।

1। এই কিতাবটি একই সাথে জামে ও সুনানও। কারণ, এটি ফিকহি তারতিবে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

2। এই কিতাবে হাদীসের তাকরার বা পুনরাবৃত্তি নেই।

3। এই কিতাবে ইমাম তিরমিযি সমস্ত ফুকাহার মৌলিক প্রমাণাদি সংকলন করেছেন; এবং প্রত্যেতকর জন্য আলাদা অধ্যায় কায়েম করেছেন। 

4। প্রতিটি অধ্যায়ে ইমাম তিরমিযি ফুকাহায়েকেরামের মাযহাব বাধ্যতামূলকভাবে বর্ণনা করেছেন।

5। ইমাম তিরমিযি প্রতিটি হাদীসের সনদের স্তরও উল্লেখ করেছেন।

6। প্রতিটি অধ্যায়ে এক অথবা দু তিনটি হাদীস উল্লেখ করেন এবং সেসব হাদীস মনোনীত করেন যেগুলো অন্যান্য ইমাম বর্ণনা করেননি। কিন্তু সাথে সাথে وفي الباب عن فلان وفلان বলে সেসব হাদীসের দিকে ইঙ্গিত করেন যেগুলো এ অধ্যায়ে আসতে পারে।

7। যদি হাদীস দীর্ঘ হয় তাহলে ইমাম তিরমিযি সাধারণত উল্লেখ করেন সে অংশটুকু যার সেই বাবের সাথে মিল রয়েছে।

8। কোন হাদীসের সনতদ যদি ত্রুটি ও ইযতেরাব থাকে তাহলে ইমা তিরমিযি তার বিস্তারিত আলোচনা করেন।

9।জামে তিরমিযির তারতিব খুবই সহজ। এর শিরোনামগুলো অনেক সহজ। তিরমিযি থেকে হাদীস তালাশ করাও সহজ।

10। তিনি মাজহুল রাবীদের পরিচয়ও করিয়ে দেন। বিশেষভাবে যে রাবী নামে পরিচিত তার উপনাম। এবং যিনি উপনামে পরিচিত তার নাম বলে দেন।

11। এ কিতাবের সমস্ত হাদীস কেন না কোন ফকীহর কাছে আমলযোগ্য । শুধু দুটি হাদীস সম্পর্কে ইমাম তিরমিযি বলেছেন যে, এগুলোর ওেপর কারো মতে আমল হয় না। একটি হলো, বিনা ওযরে দুই নামায একত্রিত করণ। দ্বিতীয়টি হলো, মদ্যপায়ীকে হত্যা করা প্রসঙ্গে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হানাফীরা এ দুটি হাদীসের ওপর আমল করেন।প্রথম হাদসিটি বাহ্যত প্রয়োগ করেন একত্রে আদায়ের ক্ষেত্রে। আর দ্বিতীয়টি শাসনের ক্ষেত্রে। সংক্ষিপ্তভাবে এ হলো, তিরমিযি শরীফ ও তার বৈশিষ্ট্যাবলি।

রবিবার, ১৫ মে, ২০২২

মে ১৫, ২০২২

ইমাম তিরমিজি (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

ইমাম তিরমিযির জীবনী
ইমাম তিরমিযির জীবনী

আলহামদুল্লিাহ। কওমী মাদরাসার ক্লাস আরম্ভ হয়ে গেছে। যারা এবার তিরমিযি শরীফ পড়াবেন তাদের জন্য ‘‘ইমাম তিরমিজি (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী’’এ প্রবন্ধটি।আমি অধমও পড়াব, তাই ভাবলাম  আপনাদের সাথেও শেয়ার করি। এখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে। আপনারা বিস্তারিত তথ্যসুত্রে দেয়া কিতাবগুলো থেকে বিস্তারিত পড়ে নিবেন ইনশাআল্লাহ!

নাম ও বংশ

ইমাম তিরমিজি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি-এর প্রকৃত নাম- মুহাম্মদ। কুনিয়াত- আবূ ঈসা। তাঁর পিতার নাম ‘ঈসা। তার দাদার নাম সাওরা। তাঁর বংশপরিক্রমা হল: মুহাম্মদ ইবনে ‘ঈসা ইবনে সাওরা ইবনে মূসা ইবনে আয-যাহহাক আস-সুলামী আয-যরীর আল-বূগি আত-তিরমিজি।

জন্মগ্রহণ

ইমাম তিরমিজি (রহঃ) এর জন্ম তারিখ নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। ইমাম তিরমিজি (রহঃ) এর জন্মসাল হিসাবে ২০৯ হিজরী (৮২৪/৮২৫ খ্রিঃ) উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে, ইমাম যাহাবি বলেন, ইমাম তিরমিজি (রহঃ) ২১০ হিজরীর (৮২৫/৮২৬ খ্রিঃ) কাছাকাছি সময়ে জন্মগ্রহণ করেন। কেউ কেউ বলেন, ইমাম তিরমিজি (রহঃ) মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। আবার অনেকে বলেন, তিনি তিরমিজে জন্মগ্রহণ করেন (যেটি বর্তমানে উজবেকিস্তানের দক্ষিনে অবস্থিত)। প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, তিনি ২০৯ হিজরীতে তিরমিজি শহরে জন্মগ্রহণ করেন।

শৈশবকাল

ইমাম তিরমিজি (রহঃ) শৈশবকাল নিজ জন্মভূমিতে কাটান। তবে, তিনি ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী এবং প্রখর বুদ্ধিমান ছিলেন। ফলে কোন হাদিসের প্রতি একবার চোখ বুলালে তা আর পুনরায় দেখার প্রয়োজন পড়তো না। সবাই তাঁর প্রখর মেধা দেখে আশ্চর্য হয়ে যেতো।

শিক্ষাজীবন

শৈশবকালে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে হাদিস শিক্ষা এবং হাদিস সংগ্রহে আত্মনিয়োগ করেন। ২০ বছর বয়সে তিনি হাদিস শিক্ষা শুরু করেন। তিনি মুসলিম জাহানের বিখ্যাত হাদিস শিক্ষাকেন্দ্রসমুহ বসরা, কুফা, ইরাক, খোরাসান, হিজাজে গমন করে হাদিস সংগ্রহ ও অধ্যয়ন করতেন। কোন কোন সময় ইমাম তিরমিজি (রহঃ) পরিবার পরিজন থেকে নিরুদ্দেশ থাকতেন।

অসাধারণ স্মৃতিশক্তি : 

ইমাম তিরমিযী রহ. ছিলেন অসাধারণ এবং বিস্ময়কর স্মৃতিশক্তির অধিকারী। এ বিষয়ে শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দেসে দেহলভি রহ. বুসতানুল মুহাদ্দিসিনে একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ইমাম তিরমিযী রহ. কোনো এক মুহাদ্দিসের কাছ থেকে হাদিসের দুটি পান্ডুলিপি ইজাজাতান লাভ করেছিলেন। অর্থাৎ ওই মুহাদ্দিস তাঁকে পাণ্ডুলিপি দুটিতে লিপিবদ্ধ হাদিসগুলো বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইমাম তিরমিযী রহ. এর আকাঙ্ক্ষা ছিল পাণ্ডুলিপি দুটির বিষয়ে সরাসরি ওস্তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া।

একবার এক সফরে ওই ওস্তাদের সঙ্গে ইমাম তিরমিযী রহ. এর সাক্ষাৎ হলে তিনি নিজের বাসনার কথা তাঁকে জানান। ওস্তাদ বললেন ঠিক আছে, পাণ্ডুলিপি দুটি নিয়ে এসো। ইমাম তিরমিযী রহ. নিজ অবস্থানস্থলে গিয়ে তালাশ করে পাণ্ডুলিপি পেলেন না। তিনি বুঝতে পারলেন হাদিসের পাণ্ডুলিপি বাড়িতে রয়ে গেছে, তার পরিবর্তে তিনি সাদা কাগজ নিয়ে এসেছেন। তিনি খুবই পেরেশান হলেন। অতঃপর সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়ে ইমাম তিরমিযী রহ. পাণ্ডুলিপিসদৃশ সাদা কাগজ নিয়ে ওস্তাদের সামনে বসে গেলেন। ওস্তাদ হাদিস পড়তে লাগলেন আর ইমাম তিরমিজি রহ. ওই কাগজের ওপর এমনভাবে চোখ ঘোরাতে লাগলেন, যেন তিনি ওস্তাদের পঠিত হাদিসের সঙ্গে পাণ্ডুলিপি মিলিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু একসময় ওস্তাদ বিষয়টি বুঝতে পারলেন। তিনি রেগে গিয়ে বললেন, তুমি আমার সঙ্গে মজা করছ? ইমাম তিরমিযী রহ. অত্যন্ত আদবের সঙ্গে ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করে বললেন, হজরত, আপনার পঠিত সব হাদিসই আমার স্মৃতিতে গেঁথে গেছে। আমি মুখস্থ করে নিয়েছি। ওস্তাদ তখন তাঁকে হাদিসগুলো শোনাতে বললেন। তখন তিনি সব হাদিস নির্ভুলভাবে শুনিয়ে দিলেন। অতঃপর ওস্তাদ তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত আরো ৪০টি হাদিস শোনালেন। ইমাম তিরমিযী রহ. সেগুলোও হুবহু শুনিয়ে দিলেন। ওস্তাদ আশ্চর্য হয়ে বললেন, ‘তোমার মতো আর কাউকে আমি কোনো দিন দেখিনি।’


তাঁর উস্তাদগণ

ইমাম তিরমিজি (রহঃ) অনেক মুহাদ্দিস থেকে হাদিস গ্রহন করেন বা শিক্ষার্জন করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উস্তাদগণ হলেন-

• ইমাম বোখারী

• আবু দাউদ

• মুসলিম বিন হাজ্জাজ

• মাহমুদ ইবনে গাইলান

• কুতাইবা ইবনে সাঈদ

তাঁর ছাত্রগণ

ইমাম তিরমিজি (রহঃ) খুব অল্প সময়ে হাদিসের পাণ্ডিত্য অর্জন করতে সক্ষম হন। ইমাম তিরমিজি রহঃ ছিলেন ইলমে হাদীসের এক বিশাল সাগর। ইমাম তিরমিজি রহ. এর পাণ্ডিত্য চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়লে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিদ্ধানুরাগী ও জ্ঞানপিপাসু ছাত্রগন তার নিকট থেকে হাদিসের দরস নিতে থাকেন। উল্লেখযোগ্য কিছু ছাত্র হলো-

• হুসাইন ইবনে ইউসূফ আল-ফিরবরী।

• হাম্মাদ ইবনে শাকির আল-ওয়ারাক।

• আহমদ ইবনে ইউসুফ নাসাফী (রহঃ)।

• রাবী ইবনে হাইয়ান আল-বাহিলী।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ

ইমাম তিরমিজি (রহ.) অনেক গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-

১| আল-জামি আল-মুখতাসার মিন আস-সুনান আন-রাসুলিল্লাহ, (এটি জামে তিরমিজি নামে বেশ পরিচিত)

২| আশ-শামাইল আন-নাবাউয়িয়াহ ওয়া আল-ফাদাইল আল-মুসতাফাউয়িয়াহ।

৩| আল-আসমা ওয়া আল-কুনা।

৪| আজ-জুহদ।

৫| আল-ইলাল আস-সুগরা।

৬| আল-ইলাল আল-কুবরা।

৭| কিতাব আত-তারিখ।

মাজহাব

ইমাম তিরমিজি ইমাম বুখারীর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তিরমিজি শাফেয়ী বা হাম্বলী মাজহাবের অনুসারী ছিলেন। এমন হতে পারে যে তিনি নিজে একজন মুজতাহিদ ছিলেন অথবা ইমাম বুখারীর খুব ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কিছু অভিমত অনুযায়ী তিনি তার মাজহাব অনুসরণ করতেন।

মনীষীগণের অভিমত

১. ‘আল্লামা শামসুদ্দীন আয-যাহাবী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি মীযানুল ই’তিদাল ফী নকদির রিজাল গ্রন্থে বলেন,

......... محمد بن عيسى بن سورة؛ الحافظ، العلَم، الإمام، البارع

 “আবূ ঈসা আত-তিরমিযী ছিলেন হাফিয, ‘আলিম, জামি’ গ্রন্থের সংকলক নির্ভরযােগ্য এবং তাঁর বিশ্বস্ততার ব্যাপারে সকলেই একমত।”

২. আল্লামা আবূ ইয়ালা আল-খালীলী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, 

محمد بن عيسى بن سَوْرَة بن شدَّاد، الحافظ، متفق عليه، له كتاب في السنن وكلام في الجرح والتعديل، روى عنه ابن محبوب والأجلَّاء، وهو مشهور بالأمانة والعلم”

‘তিনি ছিলেন সকলের মতে নির্ভরযােগ্য.............। আমানতদারী এবং জ্ঞানের ক্ষেত্রে ছিলেন প্রসিদ্ধ।’

৩. ইমাম হাফিয ইবনে হিব্বান রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন,

كان أبو عيسى الترمذي ممن جمع، وصنَّف، وحَفِظَ، وذاكر

 “আবূ ঈসা ছিলেন হাদীস মুখস্থকারী, সংগ্রহকারী ও সংকলনকারীগণের মধ্যে অন্যতম।

৪. ইমাম হাকিম আন-নিসাপুরী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, “উমর ইবনে আলাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 

مات البخاري فلم يخلّف بخراسان مثل أبي عيسى، في العلم والحفظ والورع والزهد، بكى حتى عمي وبقي ضريراً سنين

ইমাম বুখারী তাঁর ইন্তিকালের পর খুরাসানে জ্ঞান, পরহেযগারী এবং দুনিয়া বিমুখিতার ক্ষেত্রে আবু ঈসা রহ.-এর অনুরূপ আর কাউকে রেখে যাননি। তিনি অধিক কান্নার জন্য অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং কয়েক বছর পর্যন্ত অন্ধাবস্থায় জীবনযাপন করেন।”

৫. ইমাম হাফিয মিযযী রাহমাতুল্লাহি আলায়হি বলেন, “তিনি ছিলেন উল্লেখযােগ্য হাফিযগণের মধ্যে অন্যতম এবং এমন এক ব্যক্তি, যার মাধ্যমে আল্লাহ মুসলমানগণকে উপকৃত করেছেন।”

দিদারে ইলাহী

ইমাম তিরমিজি (রহঃ) ২৭৯ হিজরীর ১৩ ই রজব সোমবার রাতে (৮ অক্টোবর ৮৯২ খ্রিঃ, বোরবার রাতে) বূগে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে বর্তমানে উজবেকিস্তানের তিরমিজ থেকে ৬০ কি.মি. উওরে শিরাবাদে দাফন করা হয়। (সিয়ারু আলামিন নুবালা)

তথ্যসূত্রঃ الأعلام (6/322). البداية والنهاية (14/647).سير أعلام النبلاء (13/270/رقم 132).شذرات الذهب في أخبار من ذهب (3/327).العبر في خبر من غبر (1/402).الوافي بالوفيات (4/207).وفيات الأعيان (4/278/رقم 613).

জাপানি ক্যান্ডেলস্টিক প্যাটার্ন: MARUBOZU

একটি মারুবোজু একটি পূর্ণ দীর্ঘ শরীর এবং সবেমাত্র কোনো ছায়ার সাথে ক্যান্ডেলস্টিক মিস করা কঠিন।এই কঠিন শরীরটি যে কোনও নির্দিষ্ট দিকে একটি শক্...