ব্রেকিং নিউজ

বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২২

নভেম্বর ০৩, ২০২২

ঘুমন্ত অবস্থায় তালাক দিলে পতিত হবে কি?


আমার ঘুমের ভিতরে কথা বলার অভ্যাস আছে। এটা আমার রোগ। আমি ঘুমের ভেতরে প্রায় নাকি তালাক তালাক বলে উঠি। কিন্তু জাগ্রত হওয়ার পর কিছুই মনে থাকে না। এখন টেনশনে আছি যে, এর কারণে আমার দাম্পত্যজীবনে কোনো ক্ষতি হচ্ছে কিনা? অর্থাৎ আমার স্ত্রীর উপর তালাক হয়ে গিয়েছে কিনা?

জবাব: এ বিষয়ে আরব বিশ্বের সর্বোচ্চ ফতোয়া কমিটিকে জিজ্ঞাসা করা হলে তাঁরা উত্তর দিয়েছেন,

إذا طلق الرجل زوجته وهو نائم : فإن طلاقه لا يقع 
‘যদি কোনো ব্যক্তি স্ত্রীকে ঘুমন্ত অবস্থায় তালাক দেয় তাহলে তা পতিত হবে না।

হাদীসে রয়েছে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
  رفع القلم عن ثلاثة : عن النائم حتى يستيقظ ، وعن الصبي حتى يبلغ ، وعن المعتوه حتى يعقل

-তিন শ্রেণীর মানুষ থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে; ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়ার আগ পর্যন্ত, নাবালেগ বালেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত ও পাগল ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত। তিরমিযি, ইবনু মাজাহ এবং হাকিম আলী রাযি. সুত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।’ 

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দিলেও তা পতিত হয় নি।
উত্তর দিচ্ছেনঃ
মুফতি রেজাউল করিম
মোবাঃ 01782-409169

রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২

অক্টোবর ২৩, ২০২২

পুরুষের সতর কতটুকু?



بسم الله الرحمٰن الرحيم. حامدا و مصليا و مسلما

পুরুষের সতর হল নাভির নিচ থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত। হাদিস শরিফে এসেছে, আমর ইবনে শুআইব (রহ.) তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলে কারীম (সা.) বলেন:  ‘কোনো পুরুষ অপর পুরুষের সতরের দিকে তাকাবে না। পুরুষের সতর হল নাভির নিচ থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত।’ [সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদিস: ৩২৩৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৭; সুনানে দারা কুতনী ১/৩২০] হেদায়া ১/৯২; নসবুর রায়াহ ১/২৯৬-৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২২; ১৮/৯০।  আল্লাহ তা‘আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।

উত্তর দিচ্ছেনঃ
মুফতি রেজাউল করিম
মোবাঃ 01782-409169
অক্টোবর ২৩, ২০২২

গোশতের পরিবর্তে মাংস বলা যাবে কি?




بسم الله الرحمٰن الرحيم. حامدا و مصليا و مسلما

অভিধানে মাংস শব্দের অর্থ লেখা হয়েছে,

‘প্রাণীর দেহের হাড় ও চামড়ার মধ্যবর্তী শরীরের অংশবিশেষ।’ [ব্যবহারিক বাংলা অভিধান পৃ. ৯৬৮]

সকল বাংলা অভিধানে এই অর্থই লেখা হয়েছে। কোথাও মাংস মানে মায়ের অংশ লেখা হয়নি।

তাই মাংস শব্দকে মাংশ মনে করে মায়ের অংশ ব্যাসবাক্যে সন্ধিবিচ্ছেদ করা বাংলা ভাষার কোনো নিয়মের মাঝে পড়ে না।

সুতরাং গোশতকে মাংস বলা যাবে না- বিষয়টি ঠিক নয়। বরং শরিয়তের দৃষ্টিতে মাংস বলতে কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহ তা‘আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।

উত্তর দিচ্ছেনঃ
মুফতি রেজাউল করিম
মোবাঃ 01782-409169

অক্টোবর ২৩, ২০২২

মৃত মানুষের হাড় বিক্রি করা কি জায়েয?



بسم الله الرحمٰن الرحيم. حامدا و مصليا و مسلما
মানুষ জীবিত হোক বা মৃত হোক সর্বদা মানুষকে সম্মান করতে হবে,তাকে অপদস্থ করা যাবে না।মূত্যু পরবর্তী জানাযা সম্পন্ন হওয়ার পর মানুষকে দাফন করাই আল্লাহর বিধান।এমনকি লাশের যে অংশকে পাওয়া যাবে তাকেও দাফন করা।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻛَﺮَّﻣْﻨَﺎ ﺑَﻨِﻲ ﺁﺩَﻡَ
নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি।(সূরা বনী ঈসরাঈল-৭০)




হযরত আয়েশা রাযি থেকে বর্ণিত,
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ : ( ﻛَﺴْﺮُ ﻋَﻈْﻢِ ﺍﻟْﻤَﻴِّﺖِ ﻛَﻜَﺴْﺮِﻩِ ﺣَﻴًّﺎ )
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,মৃত মানুষের হাড্ডি ভাঙ্গা জীবিত মানুষের হাড্ডি ভাঙ্গার সমতূল্য।(মুসনদে আহমদ-২৪৭৩০, সুনানু আবি দাউদ-৩২০৭,সুনানু ইবনি মা'জা-১৬১৬)


জীবিতদের চিকিৎসার স্বার্থে কিছু শর্ত সাপেক্ষ্যে হারবী বা মুরতাদ কাফেরের লাশকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুমতি সম-সাময়িক ফুকাহায়ে কেরামগণ দিয়েছেন। (মাজমা'উল ফেকহীল ইসলামী,জিদ্দা)

হাড় যদি কোনো মৃত মুসলমানের হয় তাহলে তৎক্ষণাৎ তাকে দাফন করা ওয়াজিব।পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে রেখে দেওয়া কখনো জায়েয হবে না।বরং এর পরিবর্তে প্লাস্টিক ইত্যাদির তৈরী হাড় দ্বারা গবেষণা করাই উচিৎ।

আরব বিশ্বের বিশিষ্ট আলেম সালেহ অাল-ফাউজান বলেন, শিক্ষার স্বার্থে লাশকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা বর্তমান সময়ে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরী হয়ে পড়েছে। সুতরাং যদি বিকল্প কোনো রাস্তা থাকে,তাহলে সে রাস্তায়-ই জরুরতকে পূর্ণ করা উচিৎ। যদি মৃতর হাড় ব্যতীত শিক্ষা গ্রহণের অন্য কোনো সুযোগ না থাকে, তাহলে হারবী কাফির বা মুরতাদ কাফিরের লাশ বা হাড়কে পরীক্ষা নিরীক্ষার স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে। (ফাতাওয়ায়ে ফাউজান-২/৪৪)
উত্তর দিচ্ছেনঃ
মুফতি রেজাউল করিম
মোবাঃ 01782-409169
অক্টোবর ২৩, ২০২২

পর পর তিন জুমা না পড়লে কি স্ত্রী তালাক হয়ে যায়?


بسم الله الرحمٰن الرحيم. حامدا و مصليا و مسلما
ফরজ নামাজ ত্যাগ করা অনেক বড় গুনাহের কাজ। মুসলিমদের জন্য নামাজ এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, এর মাধ্যমেই অমুসলিম এবং মুসলিমের মাঝে পার্থক্য করা হয়।

হাদিস শরিফে এসেছে,

إن بين الرجل وبين الشرك والكفر: تركَ الصلاة

অর্থ: ‘নিশ্চয় ব্যক্তি ও কুফুর শিরিকের মাঝে পার্থক্য হচ্ছে নামাজ ছেড়ে দেওয়া।’

জুমার নামাজ ত্যাগ করার বিষয়টি তো আরো মারাত্মক ব্যাপার। প্রশ্নে উল্লেখিত পর পর তিন জুমা ছেড়ে দিলে স্ত্রী তালাক হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি হাদিসে আসেনি। তবে এর থেকেও কঠিন কথা হাদিসে বলা হয়েছে।




নবী কারিম (সা.) বলেন,

من ترك الجمعة ثلاث مرات متواليات من غير ضرورة طبع الله على قلبه

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি কোনো কারণ ছাড়া পর পর তিন জুমা ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।’ [সুনানে বাইহাকি, হাদিস: ৫৭৮৫]

একজন প্রকৃত মুমিনের জন্য আল্লাহর কতৃক অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া স্ত্রী তালাক হয়ে যাওয়া থেকেও অনেক বড় শাস্তি। তাই আমাদের এ ব্যাপারে খুব বেশি যত্নবান হওয়া উচিৎ।

পবিত্র কুরআনেআল্লাহ তাআলা বলেন,

حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ

অর্থ: “তোমরা নামাজের প্রতি যত্নবান হও।” [ সূরা আল বাকারা, আয়াত: ২৩৮]

আল্লাহ তা‘আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।

উত্তর দিচ্ছেনঃ
মুফতি রেজাউল করিম
মোবাঃ 01782-409169
অক্টোবর ২৩, ২০২২

রাতে ঘর ঝাড়ু দেওয়া কি নিষেধ?


بسم الله الرحمٰن الرحيم. حامدا و مصليا و مسلما
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। আর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য কোনো সময় নির্দিষ্ট নেই। যেকোনো সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করা যায়। তাই  রাতে ঘর ঝাড়ু দেওয়া কি নিষেধ নয়। হাদিস শরিফে এসেছে,

الطُّهُورُ شَطْرُ الإِيمَانِ

‘পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ।’ [সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৫৬]

সুতরাং রাতে ঘর ঝাড়ু দেওয়া যাবে না- এটি একটি ভিত্তিহীন কথা। তাই এ জাতীয় কথা থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহ তা‘আলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।

উত্তর দিচ্ছেনঃ
মুফতি রেজাউল করিম
মোবাঃ 01782-409169

ঘুমন্ত অবস্থায় তালাক দিলে পতিত হবে কি?

আমার ঘুমের ভিতরে কথা বলার অভ্যাস আছে। এটা আমার রোগ। আমি ঘুমের ভেতরে প্রায় নাকি তালাক তালাক বলে উঠি। কিন্তু জাগ্রত হওয়ার পর কিছুই মনে থাকে না...